দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) অভিযানে বিপুল সংখ্যক স্লিপার (রেল লাইনের নিচে ব্যবহৃত কাঠ) উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এবিষয়ে রেলওয়ের পক্ষ থেকে রোববার (২২ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, রেলওয়ের বিপুল সংখ্যক সরকারি কাঠ মজুদ রয়েছে এমন একটি ভিডিও (১৯ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনার পর পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলীর সহযোগীতায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ ইন্সপেক্টর (সিআই) হাসান শিহাবুল ইসলামের নির্দেশে পৌর শহরের ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত
রেলওয়ের ঊর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী-পথ দপ্তরের ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। এসময় তার বাসার পাশের একটি কক্ষ রাখা মোট ৮৬ পিস বিভিন্ন সাইজের কাঠ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৪৫ টি বাতা এবং ৪১ টি প্রায় ১০ ফিট লম্বা কাঠ রয়েছে।
অভিযানের সময় এসব কাঠ নিজের দাবী করলেও তাৎক্ষনিক ওই রেল কর্মচারী কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় রাত পৌনে ১ টার দিকে আভিযানিক দল উদ্ধারকৃত বিপুল সংখ্যক সরকারি কাঠ জব্দ করে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।
তবে, রহস্যজনক কারণে আরএনবি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত রেল কর্মসচারীসহ কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পরদিন শুক্রবার রাতের আধারে পুলিশ হেফাজতে রাখা এসব কাঠ ছেড়ে দেয়। একটি সুত্র জানায়, অভিযুক্ত রেল কর্মচারী কয়েক বছর আগের হন্দর হিসেবে নেয়া অকেজো কাঠের মেমো দেখালে রহস্যজনক কারণে আইনীব্যবস্থা গ্রহণ না করে তা ছেড়ে দেয়া হয়। যদিও এসব কাঠ ছিলো ভালো এবং ব্যবহার উপযোগী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুরের সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মোঃ রাকিব হাসান বলেন, বিভাগীয় প্রকৌশলী- নাজিব কায়সার স্যারের নির্দেশে ঘটনা তদন্তে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহবায়ক রেলওয়ের ঊর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী-পথ হিলির কর্মকর্তা ভবেষ চন্দ্র রাজবংশী এবং রেলওয়ের ঊর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী- কার্য হিলির কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে। গঠিত কমিটি কে আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মতামত