বীরগঞ্জ

বীরগঞ্জে জোরপূর্বক দুই বিঘা জমির ধান কাটার অভিযোগ

প্রিন্ট
বীরগঞ্জে জোরপূর্বক দুই বিঘা জমির ধান কাটার অভিযোগ

প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৫


বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জে রাতের আধারে এক কৃষকের এক একর ১২ শতাংশ জমির পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বৈরবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। 

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই ইউনিয়নের চাপাপাড়া গ্রামের হাকিম উদ্দিনের ছেলে জিয়া (৪০), যোগেন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে সতিশ সরকার (৪২), মৃত ফুল মামুনের ছেলে মোঃ দুলাল মুন্সি (৪৫) ও এসলাম উদ্দিনের মাসুদ রানা( ৪০) সহ ২০-২৫ জনের সংবদ্ধ তার সহযোগীরা পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপাপাড়া মৌজার খতিয়ান নং ৯২ এবং দাগ নং ১৫৮২-এর এক একর ১২ শতাংশ জমির অপরিপক্ক ধান কাটতে শুরু করেন। এ সময় বর্গা চাষী মুচবাড়ি এলাকার স্বাধীন এবং তার লোকজন ধান কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। 

একপর্যায়ে কতনকৃত বিনা হাইব্রিড জাতের অপরিপক্ক ১১০ মন ধান পাওয়ার টিলার ও চার্জার ভ্যান যোগে হিরা মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার মাঠে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

ওই দুপুরে সরেজমিনে মালিক বৈরবাড়ী গ্রামের মৃত নগেন্দ্র দেবনাথের ছেলে কিশোরী মোহন দেবনাথ জানান,নিম্ন তফশীল বর্নিত জমি পৈত্রিক সূত্রে জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আছি। বর্নিত জমি নিয়ে বিবাদীগনের সাথে মামলা মোকদ্দমা চলিয়া আসছিল। তবে বিজ্ঞ আদালত আমার পক্ষে রায় দেন। তারপর বিবাদীগন বর্নিত জমি জবর দখলের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে প্রায় ১০০ জন ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে তাঁর জমির সব পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 হঠাৎ করে জমির সম্পূর্ণ ধান কেটে নিয়ে যাওয়ায় আমি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তিনি ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাসুদ রানা বলেন, ক্রয়সূত্রে তিনি ও তার সহযোগীরা ওইসব জমির মালিক। তাদের মালিকানাধীন জমির ধান তারা কেটেছেন।

বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি জানি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”