দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের গাছের টেন্ডারে প্রজাতির নাম ভুল উল্লেখ ও মূল্য নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সাত উপকারভোগী। এ ঘটনায় গত ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত ও পুনরায় টেন্ডারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড় জালালপুর মৌজায় ২০১২ সালে বন বিভাগের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিতে সাত সদস্য আকাশমণি ও বেলজিয়াম প্রজাতির গাছ রোপণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী, গাছ বিক্রির অর্থের ৪৫ শতাংশ পাওয়ার কথা তাঁদের।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাগানে আকাশমণি ও বেলজিয়াম গাছ থাকলেও টেন্ডারের কাগজে মিনজিরি গাছ উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধনের আবেদন করার পরও একই নাম রাখা হয়। এ ছাড়া মিনজিরি গাছের মূল্য প্রতি সিএফটি ১৩৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
একদিকে উপকারভোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এ অবস্থায় বাগানের গাছের প্রকৃত সংখ্যা, প্রজাতি ও বাজারমূল্য নির্ধারণে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন উপকারভোগীরা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, গাছের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিধানকান্তি হালদার জানান,উপজেলার বড় জালালপুর মৌজায় বন বিভাগের জায়গায় চুক্তিভিত্তিক সুবিধাভোগীদের লাগানো গাছের টেন্ডারে নাম ও দাম পরিবর্তন নিয়ে অনিয়ম সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি, বন কর্মকর্তাকে চিঠি ফরোয়ার্ড করা হয়েছে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
বনবিভাগের চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, টেন্ডার হওয়ার আগে যখন এটি অনলাইনে দিয়ে দেই তখন গাছের নাম টাইপিংয়ে মেনজিয়ামের পরিবর্তে মিনজিরি ছিল। পরে, বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সংশোধন করে দেই। সর্বশেষ যে মূল্য নির্ধারণ তালিকা করা হয়েছে সেখানে মেনজিয়াম গাছ হিসেবেই উল্লেখ আছে। আর পার্টিরা (ক্রেতা) তো মেনজিয়াম গাছ হিসেবেই ক্রয় করবেন।
মতামত