দিনাজপুরের কাহারোলের আলোচিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ কে তার ৬ মাসের সাফল্য ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার অবদান স্বরূপ বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেন উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২ টায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে কাহারোল অফিসার্স ক্লাবের আয়োজনে কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকলেদা খাতুন মীমের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ বিদায়ী এই এসিল্যান্ডকে ফুললে শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
চলতি বছরের ৩১ মার্চ ২০২৬ কাহারোল সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে 'ইশতিয়াক আহমেদ তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রশাসনিক সার্বিক বিষয়ে ক্লান্তহীন এবং জননিরাপত্তা পরিকল্পনায় কর্ম দক্ষতায় রাষ্ট্রীয় এবং সর্বজনসাধারণের (ভূমি) সেবা সংক্রান্ত পদক্ষেপ মূলক কর্মকান্ডে হয়ে উঠেন এক আস্থার প্রতীক। অল্প সময়ে জনমনে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন তিনি।
ভূমি সেবায় জমা-জমি মালিকানা বিরোধসহ ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো আইনি সেবা দপ্তরে এবং মাঠে ঘাটে সরজমিন তদন্ত ও সড়ক পরিবহন নিরাপদ সুরক্ষায় চালকদের সতর্কতা মূলক পদক্ষেপে গ্রহন করেন।
হাট বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানে দ্রব্য মুল্য সহ ভেজালবিরোধী খাদ্যের মনিটরিং এবং বিশেষ করে মাদক নির্মূলে অভিযানে পরিচালনা করে জেল এবং জরিমানা অব্যাহত রাখেন।
সরকারি সম্পত্তি বেদখলে থাকা জলমহাল (পুকুর) এবং অনান্য সরকারি সম্পত্তি দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে উদ্ধার, মৎস্য সুরক্ষায় নদীতে ও যে কোনো জলাশয়ে নিষিদ্ধ এবং অবৈধ কারেন্ট জালে মৎস্য শিকারে প্রতিহত করতে সচেতন মূলক পদক্ষেপ ছিল উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়াও সমাজিক অসামাজিক বিষয়ে জনসচেতন মূলক উদ্বোগে কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সভা সমাবেশে অংশগ্রহণে সামাজিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ চেষ্টায় আলোচনায় রেখেছেন উপদেশ মূলক বক্তব্যে ।
সরকারি দাপ্তরিক অফিস সময় তোয়াক্কা না করে সময় অসময়ে রাত দিন কর্ম ব্যস্ততায় দায়িত্ব পালনে ছিলেন ক্লান্তিহীন এবং প্রতিটি আইনি উদ্যোগ ছিল দৃঢ়তার সাথে।
তবে এ উপজেলায় কর্ম দায়িত্বে মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই জনপ্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতা এবং দূরদর্শীতায় কর্ম সেবায় রেখেছেন অনেক অবদান। সেবা গ্রহীতাদের আত্মতৃপ্তিই ছিল যার বহিঃপ্রকাশ।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হতে তাকে প্রত্যাহারপূর্বক রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নে ন্যস্ত করা হয়।
এ ছাড়াও ৬ ই জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি আয়োজিত সভায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য বিএসটিআই এর ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সারা দেশের মাঠ পর্যায়ে জরিপ অনুযায়ী চারজন কর্মকর্তার মধ্যে তিনি প্রশাসনিক কর্ম দায়িত্বে স্বীকৃতি অর্জন করেন।
এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা সহ তার কর্ম দক্ষতার সাহসিকতাকে উৎসাহ দিয়ে সাহস জুগিয়েছিলেন।
অবশেষে ৬ অক্টোবর রংপুর বিভাগীয় সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে যোগদান করার পর, সেই দিনেই দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
মতামত