ফুলবাড়ী

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে বিদায়ের সুর, অশ্রুসিক্ত হয়ে প্রিয় শিক্ষককে ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

প্রিন্ট
ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে বিদায়ের সুর, অশ্রুসিক্ত হয়ে প্রিয় শিক্ষককে ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:০৩


একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, কখনো কখনো হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীদের আপনজন। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের শিক্ষকতায় ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মতিউর রহমানও তেমনই একজন হয়ে উঠেছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে। তাই বদলির খবরে যেমন ছিল নতুন কর্মস্থলের শুভকামনা, তেমনি বিদায়ের দিনে ছিল বিচ্ছেদের ভারী আবহ। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।

বুধবার (৮ অক্টোবর) ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনায় এমন হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্যের দেখা মেলে।

৩৮তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক হিসেবে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন মো. মতিউর রহমান। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার স্নেহ, আন্তরিকতা ও মমতার সম্পর্ক। সহকর্মীদের কাছেও তিনি হয়ে ওঠেন পরিবারের একজন।

গত ৪ অক্টোবর তার বদলির আদেশ আসে। ৭ অক্টোবর তিনি রংপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন। এর পরদিনই ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বিদায় অনুষ্ঠানে ফুল, ক্রেস্ট ও উপহার দিয়ে প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে পুরো আয়োজনজুড়েই ছিল আবেগের ছাপ। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শেষ মুহূর্তে প্রিয় শিক্ষককে ঘিরে শিক্ষার্থীদের চোখের পানি যেন বলে দিচ্ছিল—কেবল কর্মস্থল বদল হয়েছে, কমেনি সম্পর্কের টান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. সাইফুদ্দীন এমরান। উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মোহাইমিনুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের প্রভাষক পল্লাদ চন্দ্র রায়, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক মো. মঞ্জুরুল হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাকিব রহমান।

বিদায়ী বক্তব্যে মো. মতিউর রহমান ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিনের স্মৃতিচারণে তিনিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিদায়ের মুহূর্তে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চোখের জল যেন নীরবে বলে দেয়—কর্মস্থল বদলায়, মানুষ দূরে যায়; কিন্তু একজন প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও মমতার বন্ধন সহজে বদলায় না।