দিগন্তজোড়ে সবুজের সমারোহ। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু সবুজ আর সবুজ চোখে পড়ছে। ফাঁকা নেই যেন ফসলের মাঠ। রোদ-বৃষ্টির খেলায় সবুজের আভা ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। নীল আকাশের সাদা মেঘের ভেলা, যেন সবুজের গাঢ় রঙ্গে একাকার হয়ে আছে।
সকালের সূর্যের আলো ছড়িয়ে দেয় এক ধরনের মুগ্ধতা, দুপুরে অন্যরকম, বিকেলের গোধুলীর রং ছড়িয়ে পড়ে সবুজ ঘেরা মাঠে।
গরম আর হাল্কা হাওয়ায় আপন মনে দোল খাচ্ছে আমন ক্ষেত। আমন ক্ষেতে সবুজের ঢেউ খেলানো এমন দৃশ্য চোখে পড়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায়।
চলতি মৌসুমে এ উপজেলার কৃষকরা রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাল চাষ, সেচ পানি দিয়ে আমন আবাদ করেছেন। আর কৃষকের আগামীর সোনালী স্বপ্ন যেন লুকিয়ে আছে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝে। এর মধ্যে এ ধানের ক্ষেতকে ঘিরে স্থানীয় কৃষকরা যেন স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছেন।
উপজেলার ১টি পৌরসভা ও শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর,ভোগনগর, সাতোর, মোহনপুর ও মরিচাসহ ১১টি ইউনিয়নের মাঠে মাঠে সবুজের সমারোহ আমন ক্ষেত ঢেউ খাচ্ছে। আমন ধানের ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে আমন চাষীরা কৃষাণ নিয়ে ধানের পরিচর্যা কেউবা আমন ধান ক্ষেতে বালাই নাশক স্প্রে করছেন ফসলকে পোকার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য। আবার কোন কোন আমন ধান চাষী বিকেলের পর মাঠে বালাই নাশক প্রয়োগ করছেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আমন ধানের ক্ষেতগুলি সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে।
উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাহাতাবপুর গ্রামের আমন চাষী রতন জানান, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসের বৃষ্টি কম থাকায় আমন ধানে সেচ দিতে হয়েছে। একদিকে উৎপানদন খরচ বেড়ে যাবে। সুজালপুর ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের
আমন চাষী সতীশ চন্দ্র বর্মন বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আমন ধানের গাছগুলি সতেজ, সবল ও সবুজ হয়ে ওঠেছে। তিনি জানান, বাতাসে আমন ধানের ক্ষেতগুলি দোল খাচ্ছে। এতে খরচও কমে গেয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২৯ হাজার ৫ শত ৭৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ থেকে ১৫ ভাগ জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেক কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে ধান বীজ ও সার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে আমন ধানের ক্ষেত সবুজে ভরে উঠেছে। তবে প্রথম দিকে টানা বৃষ্টিপাত হলে ও সময় মতো পানি চলে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজ খবর রাখছি। জমিতে ফলন ভালো করতে সার্বিকভাবে স্থানীয় কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করা যায়। তিনি আরও জানান, বি -৭৫ ও বিনা ১৭ আগাম জাতের ৫ হেক্টর জমির ধান কর্তন করেছেন কৃষকরা।
মতামত