দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আকরাম হোসেন মন্ডল (৯৫) বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পরে গতকাল হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাত ১১ঃ ২০ মিনিটে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
মৃত্যুকালে অধ্যাপক আকরাম হোসেন মন্ডলের বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি হাকিমপুর পৌরসভার বড় ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বাদ যোহর মরহুমের জানাজা নামাজে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিত ছিলো চোখে পড়ার মতো। জানাজার নামজ শেষে বড় ডাঙ্গাপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাপন কাজ সর্ম্পূন করে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। পরে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে হাকিমপুর উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সুধী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ,শিক্ষাবিদ ও সাবেক জনপ্রতিনিধির মৃত্যুতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অধ্যাপক আকরাম হোসেন মন্ডল দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে মৃত্যু বরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুর স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বড় ছেলে হাকিমপুর পৌরসভার দুই বারের সাবেক মেয়র ও বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, আমার বাবা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না।তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন। তিনি হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দীর্ঘ দিন দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তাঁর জীবন দশায় তিনি মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকতা পেশায় অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর সহধর্মিণী (আমার মা) একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন।
আমার বাবা হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ ৫ বছর (২০১৪-১৯) সাল পর্যন্ত দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘ দিন থেকে শারীরিক নানা সমস্যায় বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে এক মাস যাবৎ চিকিৎসকের পরামর্শ মতে বাসায় ছিলেন। গতকাল রবিবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।
হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি আমার অত্যান্ত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তি ছিলেন। আমি তাঁকে চাচা বলে ডাকতাম। তিনি ২০১৪ সালে জনগণের ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং একই সময় আমি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। এই জন্য তাঁর সাথে রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বেশি সম্পর্ক ছিলো। আমি তাঁর পাশে থেকে তাঁর মধ্যে যে সততা, মানুষের সেবা করার মানসিকতা, রাজনীতিবিদ হিসেবে জ্ঞান ও বিভিন্ন ভালো দিক দেখেছি যা বর্তমান সময়ে খুব অল্প সংখ্যক রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধির মধ্যে দেখা যাবে বলে মনে করি। আমি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। দোয়া করি আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন!
মতামত