দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিবাদী আল-আমিনের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আব্দুল হালিম। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রানীগঞ্জের ঘোড়াঘাট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান আব্দুল হালিম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৫ অক্টোবর উপজেলার বিন্নাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও একই গ্রামের বাসিন্দা আল-আমিনসহ ২-৩ জন জিডি নম্বর ২১৭ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে ‘সংবাদ প্রতিক্ষণ’ ও ‘জয়পুর বার্তা’ পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তার নজরে আসে। প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত তথ্য-উপাত্ত অসত্য দাবি করে তিনি এর প্রতিবাদ জানান।
আব্দুল হালিমের দাবি, আল-আমিন সংবাদ সম্মেলনে বিরোধপূর্ণ স্থানে কোনো পুকুর নেই, বরং সেটি একটি পরিত্যক্ত গর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া বাদী ও বিবাদী একই গ্রামের বাসিন্দা নন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, বিরোধপূর্ণ স্থানে পুকুর রয়েছে এবং প্রশাসনিক তদন্তেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আমজাদ হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা চিরিরবন্দর হলেও তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন এবং বিরোধপূর্ণ পুকুরের পাশেই তার বাড়ি বলে জানান হালিম।
বিরোধের কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, পাশাপাশি অবস্থিত দুটি পুকুরের মাছ বর্ষাকালে একত্রিত হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। এ সময় বিবাদী তার পুকুরের মাছ গোপনে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
আব্দুল হালিম বলেন, নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি থানায় গিয়ে জিডি নম্বর ২১৭ দায়ের করেন। এ ছাড়া চলমান মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়ার কথা বলে আল-আমিনসহ ২-৩ জন তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং পথে-ঘাটে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন হালিম।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আব্দুল হালিম সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আল-আমিন বলেন, থানায় দায়ের করা জিডিতে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং পথে-ঘাটে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
মতামত