অর্থনীতি

চীনের গুয়াংসি ইউফেংয়ের সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের চুক্তি, বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

প্রিন্ট
চীনের গুয়াংসি ইউফেংয়ের সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের চুক্তি, বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

ছবি : চীনের গুয়াংসি ইউফেংয়ের সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের চুক্তি, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ে জোর


প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:২৭

 দেশের সিমেন্টশিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে চীনের গুয়াংসি ইউফেং কোং লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি ও বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড (বিআইসিএল)। এ চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি জ্ঞান বিনিময় এবং কৌশলগত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা হবে।

বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা সুপারগলফে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএলের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। অন্যদিকে গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন।

সমঝোতা অনুযায়ী, মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএলকে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সিমেন্ট উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে দুই পক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে। সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে পরবর্তী সময়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

‘বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না: বিল্ডিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ অংশীদারি বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দেশের সিমেন্টশিল্পের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) শাহেদ জাহিদ বলেন, সিমেন্ট কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুয়াংসি ইউফেংয়ের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, নৌপথে পণ্য পরিবহনের জটিলতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তিনি বলেন, গুয়াংসি ইউফেংয়ের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করাও এ অংশীদারির অন্যতম উদ্দেশ্য।

গুয়াংসি ইউফেংয়ের চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন বলেন, চীনের সিমেন্ট উৎপাদনশিল্পে সিনোমা শিয়ামেন অন্যতম পুরোনো ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। সিমেন্টশিল্পে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা ও উন্নত উৎপাদনপ্রযুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পের রূপান্তর ও উন্নয়নে অবদান রাখতে চান তাঁরা।


অনুষ্ঠানে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি, বিআইসিএল ও সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান প্রকৌশলী দেং ইউলিয়ানসহ অন্য কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিনো বিডি এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিন ইয়ানশিয়ং, জেনারেল ম্যানেজার ইয়ে ঝেনহং এবং ইয়ুনহাই মাইনিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়ে গুয়াংহাই উপস্থিত ছিলেন।

মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএল জানিয়েছে, গুয়াংসি ইউফেংয়ের সঙ্গে এ সমঝোতা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে সিমেন্ট উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পথ তৈরি হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।