বিরামপুর

বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

প্রিন্ট
বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

প্রকাশিত : ২৫ জুলাই ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৯


দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খিয়ারমামুদপুর সীমান্ত দিয়ে ৯ নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিজিবির তৎপরতায় ওই চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিরামপুর উপজেলার খিয়ারমামুদপুর সীমান্তের ২৯১/২০-এস সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে ৯ নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাদের সীমান্ত অতিক্রম করতে বাধা দেন।

স্থানীয়দের দাবি, ওই নারীরা ভারতের শ্রীরামপুর সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।

গ্রামবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টার দিকে বিএসএফের একটি দল সীমান্ত এলাকায় এসে ওই নারীদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে বাকবিনিময় হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

খিয়ারমামুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শুকুর আলী বলেন, “আমরা বিজিবিকে সহযোগিতা করছি। সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্ত পিলারের কাছে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে ৯ নারী অবস্থান করছেন। তারা নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করে জানান, তাদের কাছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তাদের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে সীমান্তে এলেও বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (বিজিবি-২০) এর আওতাধীন ভাইগড় বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার টিয়া আলম বলেন, “আজ ভোরে ভারত থেকে ৯ জন নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

এ ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই নারীদের নাগরিকত্ব বা পরিচয় সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।