শিক্ষাঙ্গন

রামকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি

প্রিন্ট
রামকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি

ছবি : স্থানীয়দের মানববন্ধন


প্রকাশিত : ১৪ মে ২০২৬, রাত ৯:৪৩

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৫নং বিনাইল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রামকৃষ্ণপুর বিএল উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। এসময় বক্তারা বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রধান শিক্ষকের উদাসীনতা ও অনিয়মের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাদকসেবনের মতো উদ্বেগজনক ঘটনাও ঘটছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের খেলার একমাত্র মাঠে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও ধান ব্যবসায়ীদের ধান শুকানো, ট্রাক লোড-আনলোডসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে ও অর্থের বিনিময়ে মাঠ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ফলে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরুম ভেঙে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে টয়লেট নির্মাণ এবং প্রধান শিক্ষকের জন্য এসি সমৃদ্ধ অফিস কক্ষ তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতের অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির বিষয়েও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং খেয়ালখুশিমতো বিদ্যালয় পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের ছুটি প্রদান করেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

অভিযোগকারীরা জানান, রামকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাইমারি, হাই স্কুল ও ভোকেশনাল শাখাসহ এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় বিদ্যালয়টির সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে অভিভাবকদের পক্ষে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (রাজু) ও মোঃ বিপ্লব এবং এলাকাবাসীর পক্ষে সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ ইমরান হোসেন রকি ও মোঃ তশরিফুল ইসলাম (মিঠু চৌধুরী) স্বাক্ষর করেন।

এ বিষয়ে রামকৃষ্ণপুর বিএল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জুলফিকার মতিন বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে বা আমার কোন যদি লেকেজ থেকে থাকে আমি পরবর্তীতে সেগুলো কভারেজ করার চেষ্টা করব।