পরীক্ষামূলক সুইটি জাতের উচ্চফলনশীল সবজি ক্যাপসিকাম চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া, মোহনপুর ও সাতোর ইউনিয়নের অন্তত ৩ জন কৃষক। চলতি মৌসুমে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে প্রায় এক বিঘা জমিতে ‘ইন্দ্রা গোল্ড’ জাতের বিদেশি সবজি চাষ করেছেন তারা।
বীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং মোহনপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রউফ প্রায় ২০-৩০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছেন। তার নিরলস পরিশ্রম এবং উপজেলা কৃষি অফিসের কারিগরি সহায়তায় উৎপাদিত এই উচ্চমূল্যের ফসল বর্তমানে ঢাকার বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা তাকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে।
সাতোর ইউনিয়নের কৃষক হাসান আলী তিনিও প্রায় ১০- ২০ শতাংশ জমিতে লাল- হলুদ জাতের উচ্চফলনশীল সবজি ক্যাপসিকাম চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কৃষক হাসান আলী জানান,প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম চাষ করা হয়েছে। গাছে প্রচুর ফল দেখে খুব ভালো লাগছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় ব্যাপক লাভের আশা করছি। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষামূলক ভাবে ১০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম আবাদ করেছি। আশপাশের লোকজন উদ্বুদ্ধ হয় এ চাষে । ক্যাপসিকাম সবজি এবং স্যুপ রান্নায় বাড়তি স্বাদ এনে দেয়। সালাদ হিসেবে ব্যবহার করছে বিভিন্ন জেলা শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট। নতুন এ সুস্বাদু খাবার খেতে বেশ পছন্দ করছে ফাস্টফুড প্রেমিরা। তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করেছি। ১০০ কেজি ক্যাপসিকাম ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় আগামীতে অনেকে ক্যাপসিকাম চাষ হবে আশঙ্কা করছে কৃষক।
এই সফলতার পেছনে সহযোগিতার জন্য দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কৃষক।
ইউনিয়ন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হায়দার আলী বলেন, ‘কয়েক জন কৃষক উচ্চমূল্যের সবজি ক্যাপসিকাম চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। কৃষি অফিসের পরামর্শ, উপকরণ মাধ্যমে কৃষকেরা ক্যাপসিকাম চাষ করছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ‘উচ্চমূল্যের সবজি ও ফসল চাষাবাদে জেলা টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের পরামর্শে কার্যক্রম চলমান আছে।’চলতি মৌসুমে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম আবাদে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে কৃষক। আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়তে পারে। তিনি জানান, পুষ্টিগুণে ভরপুর ক্যাপসিকাম ভিটামিন সি, এ ও কে সমৃদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া ক্যাপসাইসিন উপাদান হজমশক্তি বৃদ্ধি, ব্যথা উপশম এবং ত্বক ও চুলের যত্নে কার্যকর।
মতামত