দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের নতুন বাজার মাছ হাটে কেমিক্যাল রং মিশ্রিত বিদেশি মাগুর ও শিং (কানুচ) মাছ জব্দের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় আড়ৎদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সচেতনতার কারণে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মণ ক্ষতিকর রং মেশানো মাছ আটক করা হয়।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বিরামপুর পৌরশহরের নতুন বাজার মাছ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বিদেশি মাগুর মাছগুলোতে কৃত্রিম ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল রং ব্যবহার করে সেগুলো আড়ৎদারদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে মাছগুলো আটক করেন।
স্থানীয় মাছ আড়ৎদার আমিরুল ইসলাম, খুচরা ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান (মাফু), হাবিবুর রহমান (হীরা) ও সজীব ইসলাম জানান, “এই ধরনের কেমিক্যাল মিশ্রিত মাছ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব মাছ কিনলে আমরা বাজারে ন্যায্য দামও পাই না, বরং বিক্রি করাও কঠিন হয়ে পড়ে।”
মাছ সংরক্ষণ বা আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল রং ব্যবহার করা হলে তা মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
লিভার ও কিডনির ক্ষতি,ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্ভাবনা
এ ধরনের প্রতারণামূলক কাজ শুধু ভোক্তাদের জন্যই নয়, বরং সৎ ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিনা খাতুনের নির্দেশনায় জব্দকৃত মাছগুলো পরে পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের মোন্নাপাড়া ব্রিজের নিচে ছোট যমুনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
এ সময় বিরামপুর থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতামত