দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ১ হাজার ৮০০ তালবীজ রোপণ করেছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার ২ নম্বর পালশা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের পাশে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
কর্মসূচির আওতায় উপজেলার আমড়া থেকে বুড়াবুড়ি সড়কের পাশে ৮০০টি এবং বুড়াবুড়ি থেকে বাঁশমুড়ি সড়কের পাশে আরও ১ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এসব তালবীজ রোপণ করা হয়।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপির সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে দিন দিন বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। মানুষের পাশাপাশি প্রতিবছর বজ্রপাতে মারা যাচ্ছে গবাদিপশুও। বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এমন ধারণা থেকেই তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্টরা বলেন, বজ্রপাত মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে হবে না। সাধারণ মানুষকেও এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে। তালের মৌসুমে তাল খাওয়ার পর বীজ ফেলে না দিয়ে বসতভিটার আশপাশে কিংবা রাস্তার ধারে রোপণের আহ্বান জানান তারা। চাইলে সংগ্রহ করা তালবীজ আনসার ও ভিডিপির কাছেও দেওয়া যাবে।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক চৈতী রাণী বলেন, ‘দিনাজপুর জেলা কমান্ড্যান্টের নির্দেশনায় প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দিন দিন তালগাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যতে বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বেশি বেশি তালবীজ রোপণ করা প্রয়োজন।’
সমাজসেবক মো. মোফাজ্জল হোসেন প্রধান বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বড় গাছ বজ্রপাতের আঘাত শোষণে ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয়ভাবে বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তালগাছকে গুরুত্বপূর্ণ গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. ইয়াসমীন আরা বানু, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষিকা চৈতী রাণী, ২ নম্বর পালশা ইউনিয়নের দলনেতা বাবুল আক্তারসহ ভিডিপির সদস্য ও সদস্যারা।
মতামত