বীরগঞ্জ

বীরগঞ্জে আগাম জাতের ফুলকপি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

প্রিন্ট
বীরগঞ্জে আগাম জাতের ফুলকপি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১১


আগামজাতের ফুলকপি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। বছরের পুরোটা সময় তারা ‘আগাম জাতের’ ফুলকপি চাষ করছেন। ফুলকপির ভরা মৌসুমে ভালো দাম না পেলেও অসময়ে ফুলকপি বিক্রি করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা। তাই আগাম জাতের ফুলকপির দিকেই ঝুঁকছেন চাষিরা।

ধানসহ অন্যান্য ফসলে চাষিরা যখন লাভের পরিবর্তে লোকসানের মুখ দেখছেন, তখন আগাম ফুলকপি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন উপজেলার কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় উপজেলার কৃষকরা আগাম জাতের এ ফুলকপি চাষ করে ভালো দাম পাচ্ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, আগাম জাতের ফুলকপি চাষ ও নিবিড় পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আগাম জাতের ফুলকপি বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় জমিতে নিয়মিত আগাছা দমন, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান ও বালাই ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত রয়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর একই সময়ে উপজেলায় আগাম ফুলকপির আবাদ হয়েছিল ৯২ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আগাম ফুলকপির আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার ভোগনগর ও সাতোর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আগাম ফুলকপির চাষ লক্ষ করা যাচ্ছে। এসব এলাকার মাঠজুড়ে এখন কেবলই সবুজ ফুলকপির চারার সমারোহ। 

কৃষকেরা জানান, আগাম ফুলকপি দ্রুত বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তাই আশানুরূপ ফলন নিশ্চিত করতে চারা রোপণের পর থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা করে যাচ্ছেন তাঁরা।

 উপজেলার প্রাণনগর এলাকার কৃষক মো. রফিক ইসলাম বলেন, এবার আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছি। বর্তমানে জমিতে আগাছা দমন ও অন্যান্য পরিচর্যার কাজ করছি। আগাছা পরিষ্কার রাখলে ফুলকপির চারাগুলো সতেজ ও দ্রুত সতেজভাবে বেড়ে উঠবে। বাম্পার ফলন হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভের আশা করছি।

জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকেরা এবার রত্ন, নাসা-৪৫ ও হোয়াইট মার্বেলসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সরাসরি গিয়ে কৃষকদের সার ও সেচ প্রয়োগ এবং বালাই ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন। বর্তমানে মাঠে আগাম ফুলকপির ক্ষেতের অবস্থা বেশ সন্তোষজনক।

 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো,শরিফুল ইসলাম জানান, বীরগঞ্জ উপজেলার এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এছাড়া কৃষি বিভাগের পরামর্শে এই অঞ্চলের মানুষ আধুনিক চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। চাষিরা আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। ফলে তারা ফুলকপি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। সাধারণত শীতকালেই আগাম, মধ্যম ও রবি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ফুলকপি আবাদ করা যায়। এছাড়া গ্রীষ্মকালেও চাষের উপযোগী জাত রয়েছে। চলতি মৌসুমে বীরগঞ্জ উপজেলায় মোট ৫৯৩ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ফুলকপির আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, এলাকায় ক্যাপটেন, সুদর্শন ও মার্বেল জাতের ফুলকপি আবাদ হচ্ছে। ফুলকপি আবাদে অধিক যত্ন নিতে হয়।