নবাবগঞ্জ

স্ত্রীকে গালি দেওয়ায় বাকবিতন্ডার জেরে হত্যা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, গ্রেফতার প্রতিবেশী

প্রিন্ট
স্ত্রীকে গালি দেওয়ায় বাকবিতন্ডার জেরে হত্যা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, গ্রেফতার প্রতিবেশী

প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৮ আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২০


দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর পরিত্যক্ত টয়লেটের কুপ থেকে মফিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী মাসুদ মিয়া (২৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

নিজের স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মফিদুলের সঙ্গে প্রতিবেশী মাসুদের কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে মফিদুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। 

নিহত মফিদুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের মালদহ গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া তাঁর প্রতিবেশী ও পূর্বপরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে মফিদুল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। 

এরপর নিখোঁজের চার দিন পর গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাসুদ মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা টয়লেটের স্লাব সরিয়ে ট্যাংকির ভেতরে মফিদুলের মরদেহ দেখতে পান। এরপর নবাবগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। 

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই লিটন মিয়া বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে একপর্যায়ে সন্দেহ জনক হিসেবে পুলিশ মাসুদ মিয়াকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানিয়েছেন, ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মফিদুল তাঁর স্ত্রীকে গালি দেওয়ায় দু-জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুদ বাঁশের লাঠি দিয়ে মফিদুলের মাথায় আঘাত করেন। পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। 

এরপর মরদেহটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে রেখে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যা কাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি ও নিহতের ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার মাসুদ মিয়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এসআই ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা আরও বলেন, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা,স্ত্রীকে গালি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।