বীরগঞ্জ

বীরগঞ্জে শিকলে বাঁধা দুই ভাই, কষ্টে দিন কাটছে অসহায় পরিবারের

প্রিন্ট
বীরগঞ্জে শিকলে বাঁধা দুই ভাই, কষ্টে দিন কাটছে অসহায় পরিবারের

প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৭


অসহায় পরিবারটির সামর্থ্য না থাকায় জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধী দুই সন্তানকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাদের মা-বাবা।

 মো: দেলোয়ার হোসেন গোল্ডেন ও তার স্ত্রী মোছা: আয়েশা সিদ্দিকার চার সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে প্রতিবন্ধী। দ্বিতীয় ছেলে মো: আশিকের বয়স ১৮ বছর এবং তৃতীয় ছেলে মো. আব্দুল আলিমের বয়স ১৫ বছর। দুজনকেই বাড়ির বারান্দায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার 

৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কালাপুকুর গ্রামে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মানবতার জীবন কাটছে। 

প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের মা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “আমরা খুব অসহায়। আমার স্বামী দিনমজুর, তিনিও প্রতিবন্ধী। নাক দিয়ে কথা বলেন। দিনমজুরি করে অনেক কষ্টে আমাদের সংসার চলে। আমার দুই সন্তান জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধী। তাদের চিকিৎসার খরচ বহন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।”

তিনি আরও বলেন, “শিকল খুলে দিলে তারা বাইরে চলে যায়, তখন আমি তাদের সামলাতে পারি না। এজন্য বাধ্য হয়ে তাদের বারান্দায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। তারা শিকল বাধা অবস্থায় খায়,  সেখানেই ঘুমায় এবং সন্তানদের এভাবে রাখতে আমার নিজেরও অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু অসহায় হয়ে আমাকে এ পথ বেছে নিতে হয়েছে।

প্রতিবন্ধী সন্তানদের মা ”আয়েশা সিদ্দিকা জানান, তারা অত্যন্ত গরিব ও অসহায় মানুষ। তার স্বামী দেলোয়ার হোসেন একজন দিনমজুর এবং তিনি নিজেও বাকপ্রতিবন্ধী, স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। প্রতিদিনের দিনমজুরি থেকে পাওয়া সামান্য আয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চলে। বিগত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে সন্তানদের চিকিৎসা ও লালন-পালন করতে গিয়ে তারা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে দুই সন্তানের খাওয়া-দাওয়া, ওষুধ ও দেখাশোনার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

অসহায় মা আয়েশা সিদ্দিকা আরও বলেন, শিকল খুলে দিলে ছেলেরা বাইরে চলে যায় এবং নিজেদের হারিয়ে ফেলে বা অনিষ্ট করে, যা সামলানো তাদের সাধ্যের বাইরে। ফলে মনের গভীরে তীব্র যন্ত্রণা ও মায়া থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে সন্তানদের বারান্দায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। শিকলে বাঁধা অবস্থাতেই তাদের গোসল ও খাওয়া-দাওয়া করাতে হয় এবং সেখানেই তারা ঘুমায়। নিজ সন্তানদের এভাবে পশুর মতো আটকে রাখা যে কত বড় কষ্টের, তা বলে বোঝানো যাবে না। এর জন্য তাদের অসংখ্য নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।

সন্তানদের চিকিৎসা ও একটি সুস্থ জীবনের প্রত্যাশায় মা আয়েশা সিদ্দিকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ, দিনাজপুর -১(বীরগঞ্জ -কাহারোল)  সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, সরকারের মানবিক সহায়তা ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা পেলে হয়তো তার দুই সন্তান সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে এবং পরিবারটিতে কিছুটা হলেও শান্তি ফিরবে।

সকলের কাছে জীবনের শেষ আকুতি জানিয়ে এই মা বলেন, সমাজের হৃদয়বান মানুষ ও রাষ্ট্র যদি একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেয়, তবে তাদের এই চরম দুর্ভোগ লাঘব হতে পারে। সামান্য সহযোগিতা একটি পুরো পরিবারকে অসহনীয় দুঃখ-কষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারে। তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার দয়া ও দেশবাসীর সহযোগিতা প্রার্থনা করে সন্তানদের বাঁচানোর জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।