দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এবার এ বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী। গত পাঁচ বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে।সোমবার সকালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বোরহান উদ্দিন।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার রংপুর বিভাগের ২ হাজার ৮১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৭৮ দশমিক ৪৩, ২০২৩ সালে ৭৬ দশমিক ৮৭ এবং ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ১৬ শতাংশ।জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এবার বড় ধরনের পতন হয়েছে। ২০২২ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৫ হাজার ৫৮৬ জন, ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৪১০, ২০২৪ সালে ১৮ হাজার ১০৫ এবং ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৬২ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন।বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৩.২৯ শতাংশবিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে মানবিক বিভাগ। এ বিভাগে ৭৮ হাজার ৯৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩০ হাজার ৫৯৬ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।বিজ্ঞান বিভাগে ৯৯ হাজার ৮১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭৩ হাজার ১৫৭ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।
অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ১৭২ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশ।জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৩৬৯ জন। মানবিক বিভাগে ২২৮ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ জন।পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিতেই এগিয়ে মেয়েরা। এবার ৯২ হাজার ৫৭২ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৯ হাজার ৩৬৭ জন। ছেলেদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।অন্যদিকে ৮৮ হাজার ১৮০ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৫ হাজার ৫৫৮ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬৩ দশমিক ০১ শতাংশ।জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এবার ৭ হাজার ১৫২ জন ছাত্রী এবং ৬ হাজার ৪৮৭ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে।পাসের হারে রংপুর, জিপিএ-৫-এ দিনাজপুর শীর্ষেদিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে রংপুর জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৬২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার পঞ্চগড়ে, ৫৫ দশমিক ২০ শতাংশ।এছাড়া দিনাজপুরে পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৯, নীলফামারীতে ৫৭ দশমিক ২০, কুড়িগ্রামে ৫৬ দশমিক ৩৪, গাইবান্ধায় ৫৬ দশমিক ২৭, লালমনিরহাটে ৫৬ দশমিক ০৯ এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ৫৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে দিনাজপুর জেলা। এ জেলায় ৩ হাজার ৫৮২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। সর্বনিম্ন লালমনিরহাটে, ৬২৬ জন।এছাড়া রংপুরে ২ হাজার ৯৫৮, নীলফামারীতে ১ হাজার ৬০১, গাইবান্ধায় ১ হাজার ৫৬০, ঠাকুরগাঁওয়ে ১ হাজার ৪৬৪, কুড়িগ্রামে ১ হাজার ১৭৯ এবং পঞ্চগড়ে ৬৬৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।১৮ বিদ্যালয়ে শূন্য পাসএবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আট জেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
শূন্য পাস করা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও গাছিপুর উচ্চ বিদ্যালয়; গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পলাশবাড়ী উপজেলার মোহাম্মদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ি বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সদর উপজেলার পূর্ব কুমারপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথারডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।এছাড়া লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এএম রথবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকসা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, আম্বার দিঘী উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও তাওয়ারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাদুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে এ তালিকায়।
শূন্য পাস বিদ্যালয়ে কারণ অনুসন্ধানে কমিটিফলাফল বিপর্যয় ও শূন্য পাস বিদ্যালয়ের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বোরহান উদ্দিন বলেন, এবার সারাদেশেই ফলাফল খারাপ হয়েছে। সরকার হয়তো গুণগত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।তিনি বলেন, যেসব বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এর আগেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারপরও এবার শূন্য পাস বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। শুধু কারণ দর্শানো নয়, প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে এবার একটি কমিটি গঠন করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর নূর মো. আব্দুর রাজ্জাক, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জহুরুল ইসলাম প্রামাণিক, জহিরুল ইসলাম, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী এবং শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মওদুদুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত