সারাদেশ

বীরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু,স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রিন্ট
বীরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু,স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত : ১১ মে ২০২৬, রাত ১১:৩৯

 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সুবর্না রায় নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের বাবা শ্রী বীররঞ্জন সরকার।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে বীরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে বীররঞ্জন সরকার জানান, প্রায় ২০ বছর আগে উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের জগদল ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক রাজ কুমার রায়ের সঙ্গে তার মেয়ে সুবর্না রায়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তার মেয়ের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিক সমঝোতার ভিত্তিতে সাময়িকভাবে জামাই রাজ কুমার রায়ের নামে ৪ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। পরে জমিটি ফেরত না দিয়ে উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। একপর্যায়ে তাদের ছেলে পীযুষ চন্দ্র সরকারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার পর জমিটি পুনরায় রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সুবর্না রায়ের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি পরিবারের।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন সময় সুবর্না রায়কে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো এবং টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো। এমনকি দুই মাস আগে একটি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রান্নার সময় সুবর্না রায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে তার স্বামী নিজেই শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে তাকে পৌর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয় এবং পরে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

খবর পেয়ে বীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন কুমার সরকার ও বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবারের দাবি, সুবর্না রায়ের ছেলে-মেয়েও দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রী বীররঞ্জন সরকার বলেন, আমার মেয়ে সুবর্না রায়ের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।