জুয়ার আসরে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের ছয় সদস্য। এ ঘটনায় পাঁচজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকাল ৫ টার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর এলাকার করতোয়া নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনের মধ্যে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ধর্মদাসপুর (উচাপাড়া) এলাকার দুইজন হলেন— মোঃ আলতাফ হোসেন (৪৫) এবং একই উপজেলার ষোলঘড়িয়া (ধর্মদাসপুর) এলাকার রঞ্জু মিয়া (৩৮)।এছাড়া দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর এলাকার ময়নুল ইসলাম (৫২) এবং গাইবান্ধা জেলার সাদ্যুল্লাহপুর উপজেলার আলদাদপুর এলাকার সাদেকুল ইসলাম (৫০) রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্গম চর এলাকা এবং তিন থানার সীমান্তবর্তী অবস্থানকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ১০০ থেকে ১৫০ জন জুয়ারু নিয়ে বসতো জুয়ার আসর। গোপন সংবাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ সহকারী পুলিশ সুপার, ঘোড়াঘাট - হাকিমপুর সার্কেলের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়।এ সময় পুলিশের সঙ্গে জুয়ারিদের সংঘর্ষ হয়। জুয়াড়িরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ,ধস্তাধস্তি এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে আত্মরক্ষার্থে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে জুয়াড়িরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় এএসআই মো. আরিফ হোসেন, এএসআই মো. আব্দুল মান্নান সরকার, কনস্টেবল মো. তুহিন বাবু, মিঠুন চন্দ্র দাস ও জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছেলা-ফোলা জখম হন। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তাঁদেরকে দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশকে আহত করার ঘটনায় একটি এবং জুয়া ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক আরও একটি—মোট দুইটি এজাহারে নামীয় ৭ জনকে এবং পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ফরগুটি ১৩টি,০৫ (পাঁচ) বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল,০২ টি রাবারের কালো রংয়ের বড় ডাবু, সর্ব মোট ৪,হাজার ৮ শত টাকা,৪টি বাটন মোবাইল ফোন এবং ০১টি স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করা।
তিনি আরও জানান,জুয়া সমাজে অপরাধ বাড়ায়। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
মতামত