দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ট্রাক্টর ও অটোচার্জারের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনেও সড়ক অবরোধ করেছে। তারা দিনের বেলা ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার আমেনা বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা দিনাজপুর–পার্বতীপুর আঞ্চলিক সড়কের ঘুঘুরাতলী মোড়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। ফলে সড়কের উভয় পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর আগের দিন একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে দাবির বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলনে নামেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নগর ক্লাব মোড় এলাকায় একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টর ও একটি অটোচার্জারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় অটোচার্জারে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয় এবং গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিরিরবন্দর থেকে ইটবোঝাই ট্রাক্টরটি বিন্নাকুড়ি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী দুপুরের খাবার শেষে অটোচার্জারে করে চিরিরবন্দর ফেরার পথে সংঘর্ষটি ঘটে।
দুর্ঘটনায় খালিদ মোহাম্মদ (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আহসান হাবিব জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাক্টর চালক পলাতক রয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক্টরটি থানায় জব্দ করা হয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ট্রাক্টর চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মতামত